আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাতিসংঘের প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা। তিনি মনে করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পদে একজন নারীকে নিয়োগ দেওয়া শুধু সময়ের দাবি নয়, এটি ‘ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের’ বিষয়ও।
জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসপিনোসা বলেন, জাতিসংঘের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন।
বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আরও দুজন নারী রয়েছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করে এসপিনোসা নিজের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন এখন সময় এসেছে জাতিসংঘের নেতৃত্বে একজন নারী আসার। তার ভাষায়, বিশ্বের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে নেতৃত্বের সম্ভাবনা থেকে বাইরে রাখা যায় না। তিনি এটিকে শুধু প্রতীকী পরিবর্তন নয়, বরং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেও দেখছেন।
এসপিনোসা মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ভিন্নধর্মী নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে জটিল বৈশ্বিক সংঘাত, যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের সময় পার করছে বিশ্ব। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও আর্থিক অচলাবস্থার কারণে জাতিসংঘও নানা সমালোচনার মুখে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের ঘোষিত সংস্কারের চেয়েও উচ্চাভিলাষী পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
নিজের ‘ভিশন’ নথিতে এসপিনোসা সম্ভাব্য সংঘাত আগেই শনাক্ত করার জন্য একটি বৈশ্বিক ‘আর্লি ওয়ার্নিং’ ব্যবস্থা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার সমর্থনে জমা দেওয়া এই পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ সংকট প্রতিরোধে দ্রুত সতর্কতা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। সংস্থাটিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর না করলে বৈশ্বিক আস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে। তবে পরিবর্তন কোনো একক ব্যক্তির মাধ্যমে সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, শক্তিশালী নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজনৈতিক গতি তৈরি করেই প্রকৃত সংস্কার সম্ভব।
বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ওপর বিশ্বজুড়ে চাপ বাড়লেও এসপিনোসা বিশ্বাস করেন, মানবজাতির অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘই এখনো একমাত্র সার্বজনীন প্ল্যাটফর্ম। জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানবিক সংকটের মতো ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের প্রার্থিতা তুলে ধরতে গিয়ে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন এসপিনোসা। তিনি নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘে ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পদে দায়িত্ব পালন করা মাত্র পাঁচজন নারীর একজন তিনি।

