নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারি ও গৃহস্থরা কোরবানির পশুর নিবিড় পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ বছর জেলাজুড়ে কোরবানির জন্য ২ লাখেরও বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ মিলিয়ে জেলায় মোট ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এ বছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে পশুর স্থানীয় চাহিদা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০টি নির্ধারিত থাকলেও চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু অতিরিক্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা আশা করছেন যে সঠিক তদারকি ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রান্তিক খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাদ্যের মাধ্যমে পশুগুলোকে মোটাতাজাকরণ করেছেন। তবে পশুখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ বছর উৎপাদন ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে যা খামারিদের লাভের অংকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলার খামারি আশরাফুল আলম রাশিদ জানান যে গত কয়েক মাসে পশুখাদ্যের দাম গড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে খাদ্য ৪০ টাকায় পাওয়া যেত তা এখন ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে যার ফলে খামার পরিচালনা করা এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক খামারি সরকারের পক্ষ থেকে সুদমুক্ত ঋণ ও আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় পশুপালকদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ। খামারিদের দাবি যে দেশি পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও যদি অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করে তবে স্থানীয়রা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
খামারিরা আশা প্রকাশ করছেন যে সরকার কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধ রাখবে। পশুপালন সংশ্লিষ্টদের মতে সরকার যদি পশুখাদ্যে ভর্তুকি নিশ্চিত করে এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু আনা পুরোপুরি বন্ধ রাখে তবে দেশের ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাত ভবিষ্যতে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আখতার জানিয়েছেন যে খামারিদের নিরাপদ পশুপালনে সব ধরনের কারিগরি ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় স্থানীয় ক্রেতারা যেমন সাশ্রয়ী মূল্যে পশু কিনতে পারবেন তেমনি দেশের মাংসের চাহিদা পূরণেও এই জেলা বিশেষ অবদান রাখবে।
সীমান্ত পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে অবৈধ গরু প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও পাচার রোধ নিশ্চিত করা গেলে এই ঈদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খামারিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাবেন বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ মনে করছে।

