নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বুধবার অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলা এবং যানজট নিরসনে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুব ও নারীদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যেকোনো বাহিনীর কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর।
সমাবেশ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর সব সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৬৭০ জন আনসার সদস্যসহ দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী সকল সদস্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বাহিনীর ঐতিহাসিক বিকাশের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুনর্গঠন উদ্যোগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আনসার-ভিডিপি আইন, ১৯৯৫ প্রণয়নের মাধ্যমে এ বাহিনী আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করে। ফলে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইনগত স্বীকৃতি পায় এবং আনসার-ভিডিপি গ্রামীণ নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে পরিণত হয়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্যান্য বাহিনী ও প্রশাসনের সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন, যা প্রশংসনীয়।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের পথে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতেও বিশ্বস্ত সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, “শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন, নিরাপত্তায় সর্বত্র আমরা” এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাহিনীর সদস্যরা জননিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা অব্যাহত রাখবেন।
বাণীর শেষে তিনি ৪৬তম জাতীয় সমাবেশের সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

