আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সুদানের আবেইতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক দেওয়া হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ২৯ মে তারিখের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ পদক প্রদান করবেন।
পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন—মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা ও শান্ত মণ্ডল। ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেইতে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (UNISFA)-এ দায়িত্ব পালনকালে ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটিতে ১৯৪৮ সাল থেকে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। একইসঙ্গে গত বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক দেওয়া হবে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে ১১৮টি দেশের প্রায় ৫০ হাজারের বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ এসব মিশনে চতুর্থ বৃহত্তম জনবল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে রয়েছে, যেখানে ২৭৭ জন নারীসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত আছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন UNTSO গঠনের স্মরণে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বার্তায় শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শান্তিরক্ষা বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও আশার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে, তবে এর জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন অপরিহার্য।

