নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অর্থাৎ সশরীর ও অনলাইন- মিশ্র পাঠদান বা অন্য কোনো ব্যবস্থা কার্যকর হবে কি না, তা এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পরই মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সংবাদ সম্মেলন করবে, তার আগে শিক্ষামন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য জানানো হবে না।
প্রাথমিকভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া হবে। জোড়-বিজোড় ভিত্তিতে তিন দিন অনলাইনে এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ও শারীরিক কার্যক্রম অবশ্যই সশরীর অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন শিক্ষকেরা। ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের সবাইকে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রমে আনা সম্ভব নয়। করোনার সময় অনলাইন ক্লাসের প্রয়াসেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী তা অনুসরণ করতে পারেননি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রও বলেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে অনলাইনে আনা কঠিন। এজন্য বিভিন্ন বিকল্প ও সমস্যা সমাধানের পথ খোলা রাখা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে আসবে।
গত ২৯ মার্চ, প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলেছে। বর্তমানে জ্বালানিসংকটের চাপ কমাতে আংশিক অনলাইন পাঠদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় এসেছে। সাধারণত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবার। এ হিসেবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। পূর্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

