নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তবে বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে রাজস্ব আহরণ ও ঘোষিত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
তিনি বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের অর্থনীতির আকার ও উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ৩০ শতাংশের বেশি রাজস্ব প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় চ্যালেঞ্জ।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা ব্যাংক খাত ও বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বড় আকারের উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।
কর ব্যবস্থায় কয়েকটি প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা, শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর কমানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর হ্রাস এবং পাঁচ বছরের কর কাঠামোর আগাম ঘোষণা ব্যবসা পরিচালনায় সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা হতাশাজনক। ডিসিসিআই এ সীমা ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে।
সংগঠনটি ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধাগুলোকেও স্বাগত জানিয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য কর সুবিধা এবং ই-লোন চালুর উদ্যোগ উদ্যোক্তা উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে তারা।
ডিসিসিআইর মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ি, প্রযুক্তিপণ্য ও দেশীয় শিল্পে কর ছাড় বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানি খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য কর সুবিধাকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সংগঠনটি।
এ ছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো সেবা, দ্রুত ওয়ার্ক পারমিট প্রদান এবং বিদেশি ঋণের সুদের ওপর উৎসে কর কমানোর মতো উদ্যোগ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে মন্তব্য করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

