স্পোর্টস ডেস্ক
ম্যাচের তখন অন্তিম মুহূর্ত, সুইজারল্যান্ডের ডাগআউট জয় উদযাপনে প্রস্তুত। তবে বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত রোমাঞ্চ ধরে রাখে, তার প্রমাণ দেখল বিশ্ব। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে খাউকির অবিশ্বাস্য এক হেডে সুইজারল্যান্ডের নিশ্চিত জয় রুখে দিল কাতার। নাটকীয়ভাবে ১-১ সমতায় শেষ হয় লড়াই।
‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচে দুই দলের শক্তির ব্যবধান ছিল স্পষ্ট। নিজেদের ১৩তম বিশ্বকাপ খেলতে নামা সুইজারল্যান্ড প্রথমার্ধের শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকে কাতার। বল দখল এবং আক্রমণ, দুই বিভাগেই সুইসরা ছড়ি ঘোরায়।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা মারাত্মক ভুল করে বসেন। বক্সে ফাউল করে বসেন প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারকে। ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। ১৭ মিনিটে ঠান্ডা মাথায় প্লেসিং শটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে নেন এমোবোলো। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে কাতার।
২০২২ সালের আসরে স্বাগতিক হিসেবে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিল কাতার। এবার ৪৮ দলের আসরে তারা যোগ্যতা প্রমাণ করেই এসেছে। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে চড়াও হয়। তবে ম্যানুয়েল আকাঞ্জির নেতৃত্বে সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাতারের আক্রমণ বারবার সুইস ডিফেন্সে এসে থমকে যাচ্ছিল।
ঘড়ির কাঁটা যখন ৯০ মিনিট পার করল, তখনও স্কোরবোর্ডে কাতার পিছিয়ে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে দারুণ এক হেডে জাল কাঁপান কাতারের খাউকি। পুরো স্টেডিয়াম মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়, পরক্ষণেই শুরু হয় কাতারের বাঁধভাঙা উল্লাস।
এই ১-১ গোলের ড্র কাতারের ফুটবল ইতিহাসে একটি সোনালী অধ্যায় হয়ে থাকবে। এর আগে বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা সব ম্যাচেই হেরেছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি। এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে পয়েন্ট পাওয়ার স্বাদ পেল তারা।
অন্যদিকে ১৯৩৪, ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা ঐতিহ্যবাহী সুইজারল্যান্ডকে মাঠ ছাড়তে হলো জয় হাতছাড়া করার তীব্র হতাশা নিয়ে।

