প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় শান্তির পক্ষে। মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বৈঠকে মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ‘অপারেশন সি অ্যাঞ্জেল’-এর কথা স্মরণ করেন।
শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, বৈঠকে অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে ‘ক্যারাট’ (কো-অপারেশন অ্যাফ্লোট রেডিনেস অ্যান্ড ট্রেনিং) শীর্ষক বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘সি ভিশন এক্সারসাইজ’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক নৌমহড়া ‘রিম অব দ্য প্যাসিফিক (রিমপ্যাক)’-এ বাংলাদেশের নিয়মিত অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মার্কিন কমান্ডার।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে ‘জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন এগ্রিমেন্ট (জিএসওএমআইএ)’-সংক্রান্ত দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং এ বিষয়ে অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে যুগোপযোগী ও বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

