নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জে গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লালের মরদেহ নিয়ে ধর্মীয় পরিচয় ও শেষকৃত্য সম্পাদন নিয়ে মা-বাবার বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে মৃত্যুর ছয় দিন পরও তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের হিমঘরে রাখা হয়েছে। নিহতের মা, স্ত্রী ও ভাই চান ইসলামি রীতিতে তার দাফন হোক। অন্যদিকে বাবা চান হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার সৎকার করা হোক।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ইসলামি রীতি অনুযায়ী শুভর মরদেহ দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে মরদেহ হস্তান্তর ও দাফন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার পর নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে গুলিতে নিহত হন শুভ। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
নিহতের মা পার্বতী রানি দাস ২০০৩ সালে তিন সন্তানসহ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে আয়েশা বেগম নাম নেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সে সময় শুভ চন্দ্র দাসের নাম পরিবর্তন করে মো. বিল্লাল এবং তার ছোট ভাই সুজনের নাম রাখা হয় ইব্রাহিম। তবে শুভর জাতীয় পরিচয়পত্রে এখনো ‘শুভ চন্দ্র দাস’ নামটি রয়েছে।
নিহতের ভাই ইব্রাহিমের দাবি, তাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করছে। শুভ ছোটবেলায় মাদ্রাসায়ও পড়াশোনা করেছেন। তাই তাকে ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করা উচিত বলে তারা মনে করেন।
শুভর স্ত্রী জ্যোতি আক্তারও জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে কাবিননামার মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। তার দাবি, স্বামী জীবিত থাকতেই তাকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করার কথা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু পরিবারে জন্মেছেন। তাই হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার সৎকার করতে চান তিনি। এ নিয়ে তিনি মরদেহ হস্তান্তরের জন্য আইনি পদক্ষেপও নেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মোফিজুল ইসলাম জানান, মা মরদেহ দাফনের জন্য আবেদন করার পর সেটি কবরস্থানে নেওয়া হয়েছিল। পরে বাবা আইনজীবীর মাধ্যমে হিন্দু রীতিতে সৎকারের জন্য মরদেহ চেয়ে আবেদন করেন। বিরোধের কারণে মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। এরপর মা ও ভাই হাইকোর্টে আবেদন করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, মা ও বাবার মধ্যে বিরোধের কারণে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাইকোর্ট ইসলামি রীতি অনুযায়ী মরদেহ দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন।
নিহতের পরিবারের আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আদালতের আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। রোববার আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর আদেশের অনুলিপি দেওয়া হতে পারে।

