নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাহমুদনগর এলাকার সিটি স্টেডিয়াম মাঠটি এখন এক প্রভাবশালী সুবিধাবাদীর পকেটে। ক্রিকেট প্রশিক্ষণের আড়ালে মাঠ ভাড়া খাটিয়ে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ খ্যাত হুমায়ূন ওরফে কাইল্লা হুমায়ূনের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ শাসনামলের এই দোসরের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় ক্রীড়ামোদী জনতা ও ভুক্তভোগী খেলোয়াড়রা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিতর্কিত পেশাদার কিলার আজমীর ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং নীট কনসার্নের মালিক জাহাঙ্গীর মোল্লার অন্যতম সহযোগী এই হুমায়ূন। তিনি সাবেক প্রশাসকের কাছ থেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণের দোহাই দিয়ে মাঠটি ব্যবহারের অনুমতি বাগিয়ে নেন। শুরুতে স্থানীয় যুবসমাজ এর প্রতিবাদ জানালেও, অভিযোগ রয়েছে যে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি পক্ষকে ম্যানেজ করে পুরো মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি।
বর্তমানে মাঠটি রীতিমতো ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঢাকা থেকে আসা বিভিন্ন দলকে ম্যাচ প্রতি ১০ হাজার টাকা ভাড়ায় মাঠ ছেড়ে দিচ্ছেন হুমায়ূন। শুধু তাই নয়, ক্রিকেট শেখানোর নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করিয়ে প্রতি মাসে বিবিধ বাহানায় হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন খেলোয়াড় আক্ষেপ করে বলেন, “হুমায়ূন মূলত আওয়ামী লীগের দোসর। প্রশিক্ষণের নাম কেবল একটা ঢাল, তার আসল লক্ষ্য মাঠ ভাড়া দিয়ে টাকা কামানো। জেলার ক্রিকেট বা খেলোয়াড় তৈরির পেছনে তার কোনো অবদান নেই।”
রাজনৈতিক ভোল পাল্টাতেও ওস্তাদ এই হুমায়ূন। আওয়ামী লীগের সময়ে নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ দাবি করে দাপট দেখালেও, পট পরিবর্তনের পর এখন বিএনপির লোকজনের সঙ্গে ভিড়ে নিজেকে ‘বিএনপি সাজানোর’ মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই সুবিধাবাদী ও অর্থলোভী ব্যক্তির কারণে মাহমুদনগর এলাকার কিশোর ও তরুণরা আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ রক্ষায় এই তথাকথিত প্রশিক্ষকের অনৈতিক বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হুমায়ূনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

