পাকিস্তানের লাহোরে একটি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে অন্তত ১৪ জন স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৮ শিশু। দুর্ঘটনার পর কোচিং সেন্টারের মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্থানীয় সময় লাহোরের উপকণ্ঠে একটি নির্মাণাধীন ভবনে পরিচালিত কোচিং সেন্টারে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফয়সাল কামরান জানান, আহত শিশুদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোচিং সেন্টারটি একটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছিল। নির্মাণাধীন অংশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স, উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা কোদাল ও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান।
কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর নিহত শিক্ষার্থীদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সন্তান হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, একটি জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ ভবনে কোচিং সেন্টার পরিচালনার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জাফর ইকবাল বলেন, “আমরা বুঝতে পারছি না, সন্তান হারানো কোন পরিবারের বাড়িতে আগে যাব।”
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজধানী লাহোরে বিকেল ও সন্ধ্যায় কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সাধারণ ঘটনা। ফলে এ দুর্ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক শোক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আসিফ আলী জারদারি এবং শাহবাজ শরিফ। পৃথক বিবৃতিতে তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

