নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পৃথক ঘটনায় গুম হওয়া মোবারক হোসেন ও নজরুল ইসলামের সন্ধান ১০ মাসেও মেলেনি। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক ও তার দুই ছেলে ওয়াসিম ও জসিমকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেও তাদের কাছ থেকে নিখোঁজ দুই যুবকের বিষয়ে কোনো তথ্য পায়নি পুলিশ।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর রাত ২টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে লেগুনাচালক নজরুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে যান রাজ্জাকের ছেলে ওয়াসিম ও তার সহযোগীরা। এরপর থেকে নজরুল নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ঘটনায় অপহরণ ও গুমের অভিযোগ এনে নজরুলের বাবা হরমুজ মুন্সি ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ফতুল্লা থানায় মামলা করেন। মামলায় রাজ্জাক, তার দুই ছেলে ওয়াসিম ও জসিম এবং তাদের সহযোগী ফরিদ আলীকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, রাজ্জাক ও তার দুই ছেলে পেশাদার অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ী। তাদের গ্রেফতারের পর জানা গেছে, মাদকের জন্য নজরুলকে অপহরণ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও নিখোঁজ নজরুলের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অপরদিকে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর রাত ১টার দিকে ফতুল্লার ইসদাইর নতুন বাজার মসজিদসংলগ্ন সড়ক থেকে খলিল মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেনকে রাজ্জাক, তার দুই ছেলে ও সহযোগীরা অপহরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মোবারকের বাবা খলিল মিয়া ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় রাজ্জাক, তার ছেলে জসিমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এদিকে নিখোঁজ দুই যুবকের ভাড়া বাসায় গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। দুটি পরিবারই বাসা পরিবর্তন করে অন্যত্র চলে গেছে। তাদের মধ্যে নজরুলের বাবা হরমুজ মুন্সি দুই মাস আগে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। স্থানীয়রা জানান, দুই পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, দুই যুবককে অপহরণের ঘটনায় করা মামলায় রাজ্জাককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তাকে একাধিকবার গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সে আবারও অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। দুই মামলার বিষয়ে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সে কোনো তথ্য স্বীকার করেনি। এরপরও গুরুত্ব দিয়ে নিখোঁজ দুই যুবকের সন্ধানে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

