স্পোর্টস ডেস্ক
নানা সমস্যায় জর্জরিত প্রস্তুতি পর্বের পর জাপানের নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২০তম এশিয়ান গেমস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়ার ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। ৪৩টি খেলায় অংশ নিচ্ছেন ৪৫ দেশ ও অঞ্চলের ক্রীড়াবিদরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা। বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ছিল অংশগ্রহণকারী দেশ ও অঞ্চলের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের মার্চপাস্ট। জাপানের নাগোয়া সিটি মিজুহো পার্ক অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশাল হৃদয়ের আকৃতির মঞ্চ ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তৃতীয় দল হিসেবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা।
এবারের এশিয়ান গেমসে ২২টি খেলায় অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশের মোট কন্টিনজেন্ট ২৬০ জন। এর মধ্যে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ, যাদের ৯০ জন পুরুষ ও ৯৭ জন নারী।
জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে আয়োজিত এবারের আসরে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য কয়েকটি খেলায় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। এতে বিশ্বখ্যাত তারকার পাশাপাশি দ্রুত উঠে আসা প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদরাও অংশ নিচ্ছেন।
তবে গেমস শুরুর আগে নানা সমস্যায় পড়তে হয় আয়োজকদের। ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের আবাসন, পরিবহন, নিবন্ধনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা ও অভিযোগ ওঠে। প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ ও ৬ হাজার কর্মকর্তা নিয়ে আয়োজনের পরিধিও ছিল বড়।
এর মধ্যে গত সপ্তাহে রেকর্ড বৃষ্টিতে নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতিও আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানিয়েছে, ৪৫টি দেশ ও অঞ্চল থেকে ক্রীড়াবিদরা এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন। গেমসে ৪৩টি খেলায় ৪৬৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এশিয়ার ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এবারের গেমসের সরকারি মূলমন্ত্র ‘ইমাজিন ওয়ান এশিয়া’ (Imagine One Asia), যার মাধ্যমে এশিয়ার সংহতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
স্টেডিয়ামে স্বাগতিক জাপানের ক্রীড়াবিদদের বহর প্রবেশের সময় দর্শকদের মধ্যে বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখা যায়। এরপর চীনের প্রতিযোগীরাও উল্লেখযোগ্য অভ্যর্থনা পান। ২০২৩ সালের হাংঝু এশিয়ান গেমসে ২০১টি স্বর্ণসহ মোট ৩৮৩টি পদক জিতেছিল চীন। এবারও তারা ভালো ফলের প্রত্যাশা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
বাস্কেটবল, ফুটবলসহ কয়েকটি খেলার প্রতিযোগিতা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই শুরু হয়েছে। এবারের এশিয়ান গেমস চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।
১৯৫১ সালে শুরু হওয়া এশিয়ান গেমসে অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো অলিম্পিকের গুরুত্বপূর্ণ খেলার পাশাপাশি কাবাডি ও সেপাক টাকরোর মতো এশিয়ায় জনপ্রিয় খেলাও রয়েছে। এবার ই-স্পোর্টস ও ব্রেকড্যান্সিংয়ের পাশাপাশি মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ), প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো ও টেকবলও রয়েছে।

