নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী জাতীয় বাজেট দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়েও এমন একটি বাজেট প্রস্তাব তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে, যার সুফল দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছাবে।
বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা এমন একটি বাজেট দিতে চাই, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা বিবেচনায় থাকবে। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছে।”
দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ওপর বিপুল ঋণের চাপ রয়েছে এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচক এখনো চাপের মুখে রয়েছে। তারপরও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তবে এটিকে একটি নতুন শুরুর সুযোগ হিসেবে দেখছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ঋণনির্ভরতা থেকে বের করে বিনিয়োগভিত্তিক কাঠামোর দিকে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগনির্ভর। অতীতে অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার নানা দুর্বলতার কারণে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদ পরিশোধেই বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে। এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও দক্ষ ও টেকসই করতে হবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিচালন ব্যয় ধীরে ধীরে কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যা দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করবে।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”

