থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক শতাব্দী পুরোনো বৌদ্ধবিহার ওয়াত ফ্রা মাহাথাত ওরামাহাওয়িহানকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির সংরক্ষণ ও সুরক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (২৬ জুলাই) থাই সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। নাখন সি থাম্মারাত প্রদেশে অবস্থিত বৌদ্ধবিহারটি থাইল্যান্ডের নবম বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের প্রথম ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই স্বীকৃতির ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানটির সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উদযাপনে শনিবার বৌদ্ধবিহারে কর্মকর্তা ও ভিক্ষুরা প্রার্থনা করেন এবং ঘণ্টা বাজান।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, অষ্টম শতকে প্রতিষ্ঠিত এই স্থাপনাটি ‘ফ্রা মাহাথাত বৌদ্ধবিহার’ নামেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বৌদ্ধবিহারটির প্রাঙ্গণে রয়েছে সুউচ্চ ধূসর স্তূপ, বিশাল শায়িত বুদ্ধমূর্তি এবং সারিবদ্ধ দাঁড়ানো ও উপবিষ্ট সোনালি বুদ্ধমূর্তি। পাশাপাশি বিভিন্ন রক্ষাকর্তা দেবতার অলংকৃত ভাস্কর্যও রয়েছে।
ইউনেস্কো জানিয়েছে, প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী থাইল্যান্ড উপদ্বীপে অবস্থিত এই বৌদ্ধবিহারে ব্রাহ্মণ্যবাদ, হিন্দুধর্ম, মহাযান বৌদ্ধধর্ম ও থেরবাদ বৌদ্ধধর্মসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার থেকেও এসব প্রভাব এসেছে।
সংস্থাটির মতে, এসব প্রভাব বৌদ্ধবিহারটির ধর্মীয় স্থাপনা, আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একীভূত হয়েছে।
ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি একটি দেশের পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করে বলে মনে করা হয়। থাইল্যান্ডের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত পর্যটন হলেও দেশটিতে এখনও কোভিড-১৯ মহামারির আগের পর্যায়ে পর্যটক আগমন ফিরেনি।
থাইল্যান্ডের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটিতে পর্যটক আগমন ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় তিন শতাংশের বেশি কমেছে।
থাইল্যান্ডের অন্য আটটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক নগরী আয়ুথিয়া, থুংইয়াই-হুয়াই খা খায়েং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং প্রাচীন নগরী সি থেপ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্বারাবতী যুগের নিদর্শনসমূহ।

