বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে নাগরিকদের জন্য নতুন নোট ছাড়বে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এবার বেশির ভাগ মানুষকে নতুন নোট ছাড়া ঈদ উদযাপন করতে হবে। শিশু-কিশোরদের হাতেও নতুন নোট পৌঁছাবে না।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন নোটের ব্যবস্থা করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি অভ্যন্তরীণ আদেশ জারি করেছে। রোববার (৮ মার্চ) থেকে কর্মকর্তারা নতুন নোট নিতে শুরু করেছেন। এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন কিছু কর্মকর্তা।

প্রতিবছর ঈদের সময় নতুন নোটের চাহিদা বেশি থাকে। রাজধানীর মতিঝিলে, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার অস্থায়ী দোকান থাকে। ফুটপাতের এই ব্যবসা ঈদের সময় সবচেয়ে বেশি জমজমাট হয়। কিন্তু এবার সাধারণ মানুষ নতুন নোট পাবে না, শুধুমাত্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সীমিত বরাদ্দ আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “একটি নোট ডিজাইন থেকে বাজারে ছাড়তে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে। এক সঙ্গে ৯ ধরনের নোট ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়ায় বড় চাপ তৈরি হয়। তাই গত বছর থেকেই এই রীতি বদলানো হয়েছে। নতুন নোট বাজারে ছাড়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, এর জন্য আলাদা কোনো উপলক্ষের প্রয়োজন নেই। বাজারে ব্যবহারের অনুপযোগী নোট ধীরে ধীরে নতুন নোট দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, খোলা বাজারে যদি নতুন নোটের অবৈধ লেনদেন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস আদেশ অনুযায়ী: নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালকরা প্রত্যেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ নতুন নোট নিতে পারবেন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোট নিতে পারবেন। নতুন নোট নেওয়ার সময়সীমা: ৮–১২ মার্চ।

কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশের কাছে প্রশ্ন উঠেছে যে, বেতন-ভাতার তুলনায় কত বেশি নতুন নোট নেওয়া সম্ভব। অনেকে আশঙ্কা করছেন, এটি ফুটপাতের নতুন নোট ও ছেঁড়া টাকার ব্যবসায় অবৈধভাবে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Share.
Exit mobile version