দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শনিবার (৪ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামীকাল সকাল ৯টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী নিজ নিজ জেলায় উদ্বোধনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কিছু এলাকায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, যা বিশেষ করে ছোট শিশুদের বেশি আক্রান্ত করছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি জানান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে জাতীয় টিকাদান বিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশে এই জরুরি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া।
কর্মসূচির আওতায় ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। তারা আগে টিকা নিয়ে থাকুক বা না থাকুক, সবাইকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে, পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই কর্মসূচি শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। তবে যেসব শিশুর জ্বর বা অসুস্থতা রয়েছে, তারা সুস্থ হওয়ার পর টিকা নেবে।
তিনি আরও জানান, হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
কর্মসূচি সফল করতে অভিভাবক, স্থানীয় নেতৃত্ব ও গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। গুজব এড়িয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ব্যবহৃত টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সময়মতো টিকা দিলে হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

