নিজস্ব সংবাদদাতা

রাজধানীর বাসস্ট্যান্ডগুলো আপাতত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। তবে যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থার বিশৃঙ্খলা কমাতে সরকার স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে ডিপোভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে একটি বাসস্ট্যান্ডে অনেক বাস ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থান করে। এতে জায়গার সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও যাত্রীসেবায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে বাসগুলো নির্ধারিত ডিপোতে রাখা হবে।

মন্ত্রী বলেন, যেসব বাসের যাত্রার সময় কাছাকাছি থাকবে, শুধু সেগুলোই বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করবে। অন্য বাসগুলো রাখা হবে নির্ধারিত ডিপোতে।

মহাখালী বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তর প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, এটি আপাতত বহাল থাকবে। তবে ভবিষ্যতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড উত্তরায় স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত চাপের কারণে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ দ্রুত রয়েছে, সেগুলোই স্ট্যান্ড ব্যবহার করবে। অন্যদিকে, যেসব বাসের ছাড়ার সময় অনেক পরে, সেগুলো বাসস্ট্যান্ডে না রেখে ডিপোতে রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সাময়িকভাবে বাস ডিপো হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত চাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে।

সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড স্থানান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পর এটি কাঁচপুরে নেওয়া হবে। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বাসস্ট্যান্ডটি সচল থাকবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাসস্ট্যান্ডে শুধু নির্ধারিত সময়ে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুত থাকা বাসগুলো অবস্থান করবে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা বাসগুলো ডিপোতে রাখা হলে রাজধানীর সড়কে চাপ কমবে এবং যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।

সরকারের এই ডিপোভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন হলে একদিকে বাসস্ট্যান্ডগুলোর ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে রাজধানীর যানজট ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Exit mobile version