নিজস্ব প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়াতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ বা জার্মানের মতো যেকোনো একটি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ পরিকল্পনার কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাক্রম পুনর্গঠন করা হবে। নতুন কাঠামোয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পাবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করার কথাও বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ ও দক্ষতা অনুযায়ী কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা কিংবা গবেষক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি নারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

