নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে সজীব নামের এক রিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। গ্রেপ্তারকৃত সজীব বন্দর থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ বাগবাড়ী এলাকার একটি বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং পেশায় রিকশাচালক বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ কবিলের মোড় এলাকার একটি নির্জন স্থানে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে শুক্রবার (২৬ জুন) সজীবকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখায় এবং শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ওইদিন বিকেলে কিশোরী নবীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হাঁটাহাঁটি করার সময় রিকশাচালক সজীবের সাথে তার দেখা হয়। এ সময় সজীব মেয়েটিকে বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে তার রিকশায় তুলে নেয়। মেয়েটি সরল বিশ্বাসে রিকশায় উঠলে সজীব তাকে সাবদী এলাকায় ঘুরিয়ে আনার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে রিকশাচালক সজীব কিশোরীকে নিয়ে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ কবিলের মোড় এলাকার একটি নির্জন কলাগাছ তলায় পৌঁছায়। সেখানে কোনো লোক না থাকার সুযোগে সে কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে সজীব ভুক্তভোগী কিশোরীকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
এই সময় ওই কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং রিকশাচালক সজীবকে হাতেনাতে আটক করে। পরে স্থানীয়রা বন্দর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার করা মামলায় সজীবকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে যথাযথভাবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

