বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়ক ও নবাব সলিমউল্লাহ সড়কের ফুটপাত দখল করে বসা হকার উচ্ছেদ করে তা নগরবাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (এনসিসি)। এনসিসি’র এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে নগর ভবনের মিলনায়তনে মতবিনিময় সভার আহ্বান করেন নাসিক প্রশাসক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। বিকেল সাড়ে ৩টায় এ সভা শুরু হয়ে ৩ ঘন্টা চলে।
এতে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, জেএসডি, ইসলামী আন্দোলন, সাম্যবাদী দল ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের ৩২ জন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। তবে, বক্তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
তারা বলেন, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা আইনত অপরাধ। ফুটপাত সাধারণ মানুষের হাঁটার জন্য উন্মুক্ত রাখা খুব জরুরি। কিন্তু বছরের পর বছর শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলো দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন হকাররা। এতে নগরবাসীর ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জন্য ফুটপাত উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান বক্তারা।
সভায় কেউ কেউ হকারদের মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের পুনর্বাসন করারও প্রস্তাব রাখেন। প্রয়োজনে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মতো ‘হলিডে মার্কেট’ করে দেয়ার কথা বলেন তারা। যাতে সপ্তাহে অন্তত ছুটির দিনগুলোতে উন্মুক্ত স্থানে তারা বসতে পারে এবং সেখানে যাতে ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারেন সে উদ্যোগও নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়।
২০১৮ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হকারমুক্ত করে ফুটপাত উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেন। ওই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বাধার মুখে পড়েন আইভী। পরে হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে আইভী হামলার সম্মুখীনও হন। মেয়র আইভী ছাড়াও হকার ও শামীম ওসমানের অনুসারীদের হামলায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক নেতাসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
আলোচনায় হকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ওই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের প্রসঙ্গও উঠে আসে এবং এক্ষেত্রে হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।
সমাপনী বক্তব্যে সিটি প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। ফুটপাত থেকে হকারদের সরানো গেলে চাঁদাবাজিও বন্ধ হয়ে যাবে।
আগে ফুটপাত পরিষ্কার করা হবে তারপর হকারদের পুনর্বাসনের বিষয় আসবে বলে মন্তব্য করেন এড. সাখাওয়াত। আগামী ১৩ এপ্রিল সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফুটপাত হকারমুক্তের কার্যক্রম শুরু করবেন বলেও জানান তিনি। ফুটপাত হকারমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনাকালে রাজনৈতিক, সামাজিক, নাগরিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, হকারদের এরআগেও পুনর্বাসন করা হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সলিমউল্লাহ সড়কে হকার্স মার্কেটও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেই দোকানগুলো বিক্রি করে দিয়েছে এবং মালিকানাও বদল হয়ে গেছে। ওই হকার্স মার্কেট ভেঙে দিয়ে তা উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি। পুনর্বাসনের নামে দোকান করে দিলে আবারও বিক্রির ঘটনা ঘটবে। সুতরাং তেমনটা আর করবো না। আমরা উন্মুক্ত স্থান দেবো যেখানে তারা নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা নিয়ে ব্যবসা করবে। তবে, এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও জানান এড. সাখাওয়াত।
সভায় বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল আউয়াল, সাম্যবাদী দলের সভাপতি সাঈদ আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটিরি যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল ইসলাম সানি, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মন্টু চন্দ্র ঘোষ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. সরকার হুমায়ূন কবির, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা, ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, জামায়াতে ইসলামী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসাইন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, সিপিবির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, ইসলামী আন্দোলনের মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ, জেএসডি’র মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোতালেব মাস্টার, বাসদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু নাঈম খান বিপ্লব, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শওকত আলী, গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি প্রকৌশলী নাহিদ হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম জোসেফ, খেলাফত মজলিসের মহানগর শাখার সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, নাসিকের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, শওকত হাশেম শকু, অহিদুল ইসলাম ছক্কু, মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক এসএম আসলাম, সদস্য সচিব ফারুক হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা আক্তার সোনালী প্রমুখ।

Share.
Exit mobile version