নিজস্ব প্রতিবেদক
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুম প্রতিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ, উচ্চ আদালতের পৃথক সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত এই চারটি অধ্যাদেশ এখনই পাস না করে পর্যালোচনার রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এগুলো প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজন করে সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই চারটি অধ্যাদেশ সম্পর্কে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর বক্তব্য, বিবৃতি বা নোটিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, সংসদ নেতা তাদের গঠনমূলক ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সংসদে কোনো ধরনের অসত্য বা আক্রমণাত্মক তথ্য উপস্থাপন না করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, “সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক ভূমিকা রাখা এবং যথাসময়ে অধিবেশনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।”
সংসদীয় দলের এই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, জনগুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো নিয়ে যার যতটুকু দায়িত্ব, তিনি কেবল ততটুকুই বক্তব্য দেবেন। অহেতুক বা অতিরিক্ত মন্তব্য করে বিতর্কের সৃষ্টি না করতে সংসদ সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এবং অধ্যাদেশগুলোকে আরও যুগোপযোগী করতেই এই যাচাই-বাছাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে সরকার।

