নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই তাঁর শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দূরত্ব তৈরি না করে দেশের ভিভিআইপিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে এই বাহিনীর একটি আধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জের উদ্বোধন ও বিশেষ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক আগে এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিরাপত্তার পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। প্রযুক্তি ও ভূ-রাজনীতির দ্রুত অগ্রগতির কারণে তৈরি হওয়া বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এসএসএফ কর্মীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকতে হবে। এই বিশেষায়িত বাহিনীর সাহস, দক্ষতা কিংবা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
জনগণের দুর্ভোগ কমাতে নিজের মোটর শোভাযাত্রার আকার ছোট করার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন কাজ। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সুবিধা ও সরকারপ্রধানের সুরক্ষা—উভয় বিষয়ের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার মাধ্যমেই এই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।
সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তা পূরণের লক্ষ্যে ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের নির্দেশ দেন। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে তিনি আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিভিআইপিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন এবং তাঁর ইন্তেকালের পর বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনে এসএসএফ-এর পেশাদার ও আন্তরিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। দেশপ্রেম এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে অবিচল থেকে এই বাহিনীকে আগামী দিনেও বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী গড়ে তুলতে সরকারের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান।


