বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার। সোমবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে দেওয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও তাকে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়েছিল।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা-র সন্তান ছিলেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পচর্চা দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করেছে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। দেশের শিল্পাঙ্গনে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এক শোকবার্তায় তিনি মুস্তাফা মনোয়ারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুস্তাফা মনোয়ারের শিল্পকর্ম, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যু দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

