আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংঘাতের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে চীন সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্বাগত জানানো হয়।
ইরানের সঙ্গে গত ৪০ দিন ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে এই সফরটি এর আগে কয়েক দফা স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত এই কূটনৈতিক মিশনে অংশ নিলেন ট্রাম্প।
আগামী ১৫ মে পর্যন্ত বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন যা বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ইরানের সাথে চলমান এই সর্বাত্মক যুদ্ধের মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে যাচ্ছে। এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী কূটনৈতিক কুর্ট কাম্পবেল এই সফরকে ‘অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন যে ইরান চীনের অন্যতম ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও বাণিজ্যিক মিত্র হওয়া সত্ত্বেও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে আতিথেয়তা দেওয়া একটি বড় বিস্ময়।
কাম্পবেলের মতে এই বৈঠকটি স্পষ্ট করে যে বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দুই পরাশক্তিই তাদের মধ্যকার ভঙ্গুর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে নিজেদের মধ্যে একটি কার্যকর বোঝাপড়া তৈরি করতে বিশেষভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতপক্ষে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং দেশটির প্রধান বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ জারি থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিরাপত্তার সংকট ঘনীভূত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মিত্র দেশের ওপর সামরিক আক্রমণ চালিয়েও ট্রাম্পের এই রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল না হওয়ায় বিভিন্ন সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় ট্রাম্প কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয় বরং ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। চীন শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে আসলেও ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার এই সিদ্ধান্তকে বেইজিংয়ের এক ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী কূটনীতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তিন দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে কোনো বড় ধরনের যৌথ ঘোষণা আসে কি না সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। পর্যবেক্ষকদের ধারণা শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি কিংবা সংঘাতের তীব্রতা কমিয়ে আনতে একটি প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।
যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে এই বৈঠকটি কেবল দুই পরাশক্তির উত্তেজনা প্রশমন নয় বরং আগামীর বিশ্ব ব্যবস্থায় ক্ষমতার নতুন মেরুকরণ এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বেইজিংয়ের এই বিশেষ মিশন শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর শান্তির বার্তা বয়ে আনে কি না তা দেখার অপেক্ষায় এখন গোটা বিশ্ব।

