এইচএসসি পরীক্ষার খাতা আগে-পরে নেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষাকেন্দ্রে সহপাঠীর সঙ্গে বিরোধের জেরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক পরীক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা।
বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা দিতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাই পাঠানটুলিস্থ নারায়ণগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে যান আহত শিক্ষার্থী মো. রাজিন সালেহ (১৮)। ওই দিন পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের বাইরে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার বাবা মো. আল মুনসুর রাসেল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজিন সালেহ নারায়ণগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার খাতা বিতরণের সময় নিয়ম ভঙ্গ করে আগে খাতা নেওয়াকে কেন্দ্র করে সহপাঠী মাসুম (১৯) ও নাহিদ হাসান সৈকতের (২০) মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে মাসুম নাহিদকে চড়-থাপ্পড় মারলে নাহিদও পাল্টা আঘাত করেন। পরে রাজিন সালেহসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এগিয়ে গিয়ে তাদের থামিয়ে দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরীক্ষা শেষে রাজিন কেন্দ্র থেকে বের হলে মাসুম ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজন তার পথরোধ করেন। এরপর হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি পেছন থেকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে রাজিনের বাম হাতের বাহুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। হামলা থেকে বাঁচতে তিনি দৌড়ে পাশের একটি কোচিং সেন্টারে আশ্রয় নেন। পরে সহপাঠী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরে সহপাঠীদের সহযোগিতায় রাজিনকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. আল মুনসুর রাসেল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মাসুমকে প্রধান অভিযুক্ত করে অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুম বিল্লাহ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

