নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের আওতায় ২০টি জেলার ৮ হাজার ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মাঝারি কৃষককে এ সুবিধা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ–২ শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচিত কৃষক ২০ শতক জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৬০ কেজি পেঁয়াজ বীজ (কন্দ), ২০ কেজি ডিএপি সার, ২০ কেজি এমওপি সার, একটি বীজ সংরক্ষণ পাত্র এবং পরিচর্যা ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য নগদ সহায়তা। এতে প্রতি কৃষকের জন্য সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮২৫ টাকা।
রাজশাহী ও ফরিদপুর জেলার ১ হাজার জন করে কৃষক এ সুবিধা পাবেন। ঠাকুরগাঁওয়ে ৯০০, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে ৬০০ জন করে, বগুড়ায় ৫০০, মাদারীপুরে ৪০০ এবং মানিকগঞ্জ ও পঞ্চগড়ে ৩০০ জন করে কৃষক কর্মসূচির আওতায় আসবেন। এছাড়ো গোপালগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরসহ অন্যান্য জেলায় প্রতিটিতে ২০০ জন করে কৃষক অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বরাদ্দ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ–২০০৬) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমার বাইরে ব্যয় করা যাবে না।
জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ নির্ধারণ করবে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত বছরের চাষাবাদ তথ্য ও চলতি মৌসুমের উৎপাদন সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে তালিকা তৈরি করা হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে তালিকা প্রস্তুত করবেন এবং উপজেলা কমিটির অনুমোদনের পর চূড়ান্ত হবে।
কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর, জমির অবস্থান ও প্রাপ্ত উপকরণের তথ্য ‘কৃষক তথ্য ছক’-এ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে কৃষক কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতি পাঁচজন কৃষককে একটি গ্রুপ হিসেবে ধরে সার বিতরণ করা হবে। স্থানীয় পরিবেশ ও উপযোগিতা বিবেচনায় উন্নত জাতের পেঁয়াজ কন্দ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বা অনুমোদিত উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় সার সরবরাহ করবে বিসিআইসি’র কারখানা ও বাফার গুদামগুলো। সব উপকরণের হিসাব সংরক্ষণ এবং উপকারভোগীদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে মানসম্মত পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন বাড়বে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং আমদানি নির্ভরতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মসূচির বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করবে। ফসল কাটার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের দায় বহন করতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

