স্পোর্টস ডেস্ক
শুধু খেলার আসর নয়, ফুটবল বিশ্বকাপ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম বড় বাণিজ্যিক ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সম্মিলিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রায় ৮ হাজার ১০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ফিফা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ সংস্থার এক যৌথ সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জিডিপিতে এই টুর্নামেন্টের প্রত্যক্ষ অবদান থাকবে প্রায় ৪ হাজার ৯০ কোটি ডলার।
১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ এবার নতুন ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৩২ দল থেকে বাড়িয়ে ৪৮ দল করা হয়েছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা ৬৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, আর টুর্নামেন্টের সময়সীমা গড়িয়েছে প্রায় ছয় সপ্তাহে।
মোট ১০৪ ম্যাচের মধ্যে ৭৮টি আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা ও মেক্সিকো পাবে ১৩টি করে ম্যাচ। আয়োজক দেশগুলোয় এই সময়ে প্রায় ৬৫ লাখ বিদেশি পর্যটকের আগমন হতে পারে। দৈনিক গড়ে ৪১৬ ডলার ব্যয় ধরে তাদের মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
চাহিদা পাশাপাশি খরচও বেড়েছে। গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৭০০ ডলার থেকে। ফাইনালের ক্যাটাগরি–১ টিকিটের দাম ১০ হাজার ডলারের বেশি। আয়োজক শহরগুলোয় হোটেল ভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গড় ভাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২২৭ ডলার থেকে ৪৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয়ের দিক থেকে এবার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। ফিফা আশা করছে, শুধু মিডিয়া রাইটস ও স্পনসরশিপ থেকে প্রায় ১ হাজার ৯০ কোটি ডলার আয় হবে। এর মধ্যে মিডিয়া রাইটস থেকেই আসবে আনুমানিক ৪২০ কোটি ডলার, আর গ্লোবাল স্পনসরশিপ থেকে আরও ২৮০ কোটি ডলার।
বিশ্বকাপের কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বহুগুণ বেড়েছে। প্রস্তুতি ও পরিচালনা পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮ লাখ ২৪ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য মনে করেন, এই বিপুল অঙ্কের আয়ের হিসাব বাস্তবে পুরোপুরি প্রতিফলিত নাও হতে পারে, কারণ টুর্নামেন্ট আয়োজনের উচ্চ ব্যয় ও অবকাঠামোগত চাপও সমানভাবে বড়।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল মাঠের খেলা নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য, পর্যটন ও মিডিয়া অর্থনীতির এক বিস্তৃত পরীক্ষাগার হিসেবে দাঁড়াতে যাচ্ছে।


