নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী অর্থবছরে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করবে সরকার। কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এই খাতে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার কৃষকদের প্রতিটি চারার সঙ্গে ৩০ কেজি জৈব সার এবং একটি করে বাঁশের খুঁটি বিনামূল্যে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, স্থানীয় মাটি, জলবায়ু ও পরিবেশ বিবেচনায় বৃক্ষরোপণের জন্য উপযুক্ত গাছ নির্বাচন করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ১৩ কোটি টাকা চারা সংগ্রহে, প্রায় ২০ কোটি টাকা জৈব সার বিতরণে এবং আট কোটির বেশি টাকা বাঁশের খুঁটি সরবরাহে ব্যয় করা হবে। এছাড়া পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, চারা, জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান, আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন দেশের সব জেলা ও উপজেলায় চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, “আমরা ধারাবাহিকভাবে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে সরকারি লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নে কাজ করছি।”
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন কৃষক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন। বসতভিটা, পতিত জমি, সড়কের পাশ, খালপাড়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব চারা রোপণ করা যাবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সম্ভাব্য উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করবেন। তালিকাভুক্ত কৃষকদের কৃষক কার্ড অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে উপকরণ বিতরণ করা হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় ও আর্থিক বিধিমালা অনুসরণের পাশাপাশি বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


