বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জেরা মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুরো বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দগ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নাজমুল শেখ (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), আমির (২৫), শঙ্কর (২৫), কাউসার (৩০), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), আল আমিন (৪০), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) এবং বদরুল হায়দার (৫০)। তারা অধিকাংশই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বলে জানা গেছে।

সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুপুরের খাবারের সময় ক্যান্টিনে বুফে খাচ্ছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় ক্যান্টিনজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা কয়েকজনের হাত, মুখ ও পা দগ্ধ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে রাজধানীর বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনে লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিন এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুপুরে ১২ জন দগ্ধ রোগী হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের শরীরের কত শতাংশ পুড়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। আহতদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা না ঘটলেও ক্যান্টিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন স্থাপনায় গ্যাস লিকেজজনিত দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা এবং কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ না করলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাদের মতে, অসতর্কতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির কারণেই বারবার এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।

Share.
Exit mobile version