বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬

নিজস্ব সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত জেলা কালেক্টরেট মসজিদের পুনঃসংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সিফাত উদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আরসিসি ঢালাই কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য,  গত ১ মে জুম্মার নামাজের পর জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির নিজে এই সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন যার ধারাবাহিকতায় আজ ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হলো।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সংস্কার কাজটির পরিকল্পনা করা হয় মূলত বৃষ্টির দিনে মুসল্লিদের চরম ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় যে মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আগে টিন দিয়ে আবৃত ছিল যা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র হয়ে গিয়েছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ায় দ্বিতীয় তলায় মুসল্লিদের নামাজ আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। সাধারণ মুসল্লিদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এই জনদুর্ভোগ লাঘবে জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে এবং জেলা পরিষদের অর্থায়নে পুরোনো টিন অপসারণ করে পুরো দ্বিতীয় তলা আরসিসি ঢালাইয়ের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে কালেক্টরেট মসজিদে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ইবাদত করতে আসেন এবং তাদের জন্য একটি আরামদায়ক ও নির্বিঘ্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের নৈতিক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এক বার্তায় জানান যে আল্লাহর ঘরের খেদমত করা একটি পরম সৌভাগ্যের বিষয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সিফাত উদ্দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে জেলা প্রশাসনের এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং মুসল্লিদের সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ঢালাই কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ছাড়াও মসজিদের ইমাম, মোতোয়াল্লী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ টিনের ছাদ অপসারণ করে টেকসই আরসিসি ঢালাইয়ের এই উদ্যোগকে সাধারণ মুসল্লিরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। কাজ শেষ হলে বৃষ্টির সময়ও কোনো রকম বাধা ছাড়াই তারা নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। বর্তমান সংস্কার কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর মসজিদের ধারণক্ষমতা ও পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Share.
Exit mobile version