দেশের সব তফসিলি ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ ও চাকরি স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই—এমন প্রবেশিকা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রতিটি ব্যাংককে যুগোপযোগী, সমন্বিত ও কার্যকর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে হবে। নতুন বা হালনাগাদ নীতিমালা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অনুমোদন নিয়ে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কার্যকর করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
নীতিমালায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ, শিক্ষানবিশকাল ও স্থায়ীকরণ, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ, পদোন্নতি ও পদাবনমন, পদায়ন ও বদলিসহ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি শীর্ষ নির্বাহী ও সি-স্যুট পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা, চাকরির অবসান, পদত্যাগ, চাকরিচ্যুতি ও পুনর্নিয়োগ, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা, স্বার্থের সংঘাত, দাপ্তরিক গোপনীয়তা, হুইসেলব্লোয়ার নীতি, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং কর্মস্থলে হয়রানি প্রতিরোধের বিষয়ও রাখতে হবে।
অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই—এমন প্রবেশিকা পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট, চাকরির সাইট বা প্ল্যাটফর্ম এবং কমপক্ষে দুটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার, ট্রেইনি ক্যাশ অফিসার, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার ও ক্যাশ অফিসার বা সমমানের পদকে এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈর্ব্যক্তিক ও লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে। সরাসরি উপস্থিতি কিংবা অনলাইন অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমেও পরীক্ষা নেওয়া যাবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সবচেয়ে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীকে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রবেশিকা পদ ছাড়া উচ্চতর বা অভিজ্ঞ পদে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতি অনুসরণ এবং অন্তত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে যোগদানের এক বছরের মধ্যে তাদের সর্বশেষ অর্জিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই করতে হবে। আর সার্কুলার জারির আগে নিয়োগ পাওয়া সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করতে হবে।
অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের প্রতিষ্ঠান শিক্ষাগত সনদ যাচাই করেছে—এমন প্রত্যয়ন থাকলে নতুন করে একই সনদ যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না। তবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় কোন কোন শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করতে হবে।
চাকরিতে যোগদানের পর পদোন্নতি বা অতিরিক্ত আর্থিক-অনার্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নতুন কোনো শিক্ষাগত বা পেশাগত সনদ দাখিল করা হলে তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। পরামর্শক ও উপদেষ্টা ছাড়া অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সনদ যাচাই করতে হবে।
কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট মেমোরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (সিএমএমএস) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও স্থিতিশীলতা জোরদার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

