নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য, সংসদ সদস্যদের মধ্যে কেউ ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু আইনগত অর্থে ঋণখেলাপি নন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও নাহিদ ইসলাম-এর পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনী আইন ও প্রার্থিতা সংক্রান্ত বিধানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইন, বিশেষ করে রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, কেউ আদালতের মাধ্যমে ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারান। এমন ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নও জমা দিতে পারেন না।

তিনি বলেন, সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আইনগতভাবে বৈধ প্রার্থী ছিলেন। কেউ ঋণগ্রস্ত থাকতে পারেন, কিন্তু তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে অভিহিত করার সুযোগ নেই। তার মতে, বর্তমান সংসদে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের দাবি আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাংক বা অন্য কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মামলা ছিল, সেসব বিষয়ে আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে মামলার নিষ্পত্তির পর তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ফলে তাদের ঋণখেলাপি হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ আখ্যা দেওয়াকে মানহানিকর মন্তব্য উল্লেখ করে তিনি এ ধরনের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে যেমন ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন, নির্বাচনের পরও সংসদে এ প্রসঙ্গ তুলেছেন। তার দাবি, প্রথম অধিবেশনেই তিনি কয়েকজন সংসদ সদস্যের ঋণসংক্রান্ত তথ্যের সংখ্যা উল্লেখ করেছিলেন, যদিও তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, যদি সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি থেকে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এ সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলতে পারেন। তার অভিযোগ, সরকারদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় এমন ব্যক্তিদের সংসদে আনা হয়েছে।

সংসদে ঋণগ্রস্ততা ও ঋণখেলাপির আইনি সংজ্ঞা নিয়ে এ বিতর্ক নতুন নয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সংসদ সদস্যদের আর্থিক দায়বদ্ধতা ও নির্বাচনী যোগ্যতা নিয়ে জনপরিসরে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে।

Share.
Exit mobile version