নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪১ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরে সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরিকৃত অর্থের অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল, ২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে সম্পূরক বাজেট অনুমোদিত হয়। এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় বাজেটের সঙ্গে সম্পূরক বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় হ্রাস ও বৃদ্ধির ফলে সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
সম্পূরক বাজেট অনুযায়ী, ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ৫৬ হাজার ১১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৫৯ হাজার ৩৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা কমানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। বিল পাসের আগে বিধান অনুযায়ী ২৫টি মঞ্জুরি দাবি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে সেগুলো পৃথকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এসব দাবির ওপর বিরোধীদলীয় সদস্যদের আনা ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের মধ্যে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মঞ্জুরি দাবির বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, মো. আব্দুল গফুর, মো. কামরুল হাসান, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, জিএম নজরুল ইসলাম, মো. আব্দুল আলীম, মো. মুজিবুর রহমান, আলফারুক আব্দুল লতীফ, মো. আমির হামজা, মো. আব্দুল বারী সরদার, মো. মাসুদ পারভেজ, মো. রুহুল আমিন, শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ), এনসিপির আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা।
তবে কণ্ঠভোটে সব ছাঁটাই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।
সম্পূরক বাজেটে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৬৫৫ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগের জন্য। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৪০৭ কোটি ৮৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা পরিকল্পনা বিভাগের জন্য এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯২৩ কোটি ৪৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৭৭ কোটি ৪ লাখ ৮১ হাজার টাকা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্য ১ হাজার ৮০৯ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার টাকার অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের জন্য ১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৬৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের জন্য ১ হাজার ৬৯০ কোটি ৮১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জন্য ৭২২ কোটি ৪৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৮৩ কোটি ৯১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩০১ কোটি ৯৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন খাতেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পরে অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্যের পর পৃথক মঞ্জুরি দাবিগুলো পাস করা হয়। এরপর নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল, ২০২৬ অনুমোদনের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়।


