নিজস্ব সংবাদদাতা
দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং গুদামে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকার। মূলত কৃষক পর্যায়ে সার বিতরণের প্রক্রিয়ায় নতুন পরিবর্তন আনায় মাঠপর্যায়ে সাময়িক কিছু সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে, যা দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এ সময় তিনি সার আমদানির সর্বশেষ অবস্থা এবং দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩ লাখ ৬৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঠিক এই সময়ে মজুতের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ মেট্রিক টন। ফলে দেশে সারের ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদনও দিয়েছে সরকার।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সার বিতরণে অনিয়মের খবর প্রকাশের বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার মূলত কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সার বিতরণ ব্যবস্থায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সংস্কার আনছে। নতুন এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগায় সাময়িক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি কোনো কোনো ডিলার তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সার সময়মতো উত্তোলন না করায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সংকট দেখা দিচ্ছে। তবে এই সমস্যা খুব বেশি দূর এগোবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান নানামুখী চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে আরও অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন। তবে এই অন্তর্বর্তী সময়ে গ্যাস পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হবে না বলে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
এই সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

