নিজস্ব সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যানটিনে গ্যাস লিকেজ থেকে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. আমির হোসেন (২৫) নামের এক যুবক। এর আগে একই ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে এ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুজনে।
রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে মো. আমির মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, আমিরের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর অবস্থায় কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিহত আমির শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার মাছুয়াখালী এলাকার আজহার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোন পদে কর্মরত ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ হয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় মারা যান বিদ্যুৎকেন্দ্রের শেফ শংকর গোমেজ। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শরীরের ৪৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
বিস্ফোরণের পর আহত ১২ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যান। অন্য ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকেই পরপর দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গত বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মেঘনাঘাট এলাকায় অবস্থিত জেরা মেঘনাঘাট ৭১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যানটিনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুপুরের খাবারের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যানটিনে অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসের কারণেই এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন দগ্ধ হন।
নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এর আগে ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকায় একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। একের পর এক এমন দুর্ঘটনায় আবাসিক ও শিল্প এলাকায় গ্যাসলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত গ্যাসলাইন পরীক্ষা, নিরাপত্তা তদারকি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

