নিজস্ব সংবাদদাতা
ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা বিএনপির সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অনুকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। তবে খাগকান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনায় দায়ের করা আরেক মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার বা ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে আদালতের নির্দেশে আনোয়ার হোসেন অনুকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিকেলে একদল উশৃঙ্খল জনতা আড়াইহাজার থানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় ২৩ আগস্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন মৃধা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া গত ১৩ মে উপজেলার মুকুন্দি এলাকায় চাঁদা না পেয়ে বাড়িঘরে হামলার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা সীমা আক্তার একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আনোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পারভীন আক্তারসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
পরে ১৫ মে ভোরে ডিবি পুলিশ আনোয়ার হোসেনকে আটক করে। এরপর তাকে বাড়িঘরে হামলার মামলা এবং থানা পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আনোয়ার হোসেন অনু বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) আড়াইহাজার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বাড়িঘরে হামলার মামলার পাশাপাশি থানা পোড়ানোর ঘটনায় তদন্তে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, এতে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
অন্যদিকে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী পারভীন আক্তার অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার অসুস্থ স্বামীকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে তাদের পরিবার সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। ৫ আগস্ট সরকারের পতন ঘটলে তারা থানা এলাকার পুলিশ সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতেও সহযোগিতা করেছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ এবং সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের সঙ্গে মনোনয়নসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ প্রশাসন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, মামলাটি সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হচ্ছে।

