স্পোর্টস ডেস্ক
রো ম্যাচ জুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি হলো। কখনো ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা, কখনো পোস্ট-ক্রসবারের বাধায় গোলের সুযোগ প্রতিহত। সবাই ধরে নিয়েছিলেন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ‘ই’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই গড়াচ্ছে। এমন মুহূর্তেই ত্রাণকর্তা হয়ে জ্বলে উঠলেন আমাদ দিয়ালো। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে এই ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শুভসূচনা করল আইভরি কোস্ট।
লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ‘ই’ গ্রুপের এই ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত দ্রুত গতির। দুই দলই প্রথমার্ধ থেকে আক্রমণে উঠেছে বারবার। কখনো ইকুয়েডর, কখনো আইভরি কোস্টের আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের রক্ষণ কাঁপিয়েছে। তবে গোল যেন ছিল সোনার হরিণ। নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাব আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বারবার সহজ সুযোগগুলো নষ্ট হতে থাকে।
মাঝমাঠের লড়াইয়ে বল দখলে সামান্য এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর। ম্যাচের ৫১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা মাঝমাঠে কিছুটা নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখে। কিন্তু আক্রমণাত্মক তীক্ষ্ণতায় লাতিন আমেরিকার দলটি বারবার পিছিয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আইভরি কোস্টের ফুটবল ছিল অনেক বেশি সরাসরি এবং আক্রমণাত্মক। তাদের শটের সংখ্যা যেমন বেশি ছিল, তেমনি প্রতিপক্ষ ডিফেন্সে চাপও ছিল ধারাবাহিক।
প্রথমার্ধে ম্যাচের গতি যত বেড়েছে, দুই দলের ডাগআউটে উৎকণ্ঠাও তত উঁকি দিয়েছে। ইকুয়েডরের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এননার ভ্যালেন্সিয়া ম্যাচের শুরুতেই একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ঠিক পরপরই আইভরি কোস্টের বাজাউমানা তোরে ও ইলায়ে ওয়াহি দুটি দ্রুত আক্রমণ তৈরি করলেও জালের দেখা পাননি। কিছুক্ষণ পর ইকুয়েডরের জন ইয়েবোয়াহর একটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে হতাশায় ডোবে দলটির সমর্থকরা।
তবে ইকুয়েডরের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল দুটি আক্রমণ। জন ইয়েবোয়াহ একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শট নিলেও তা ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় দফায় গোলপোস্টের পরীক্ষা নেন অ্যালান মিন্ডা। এবারও ভাগ্য সহায় হয়নি, বল লেগে ফিরে আসে সাইডবারে। প্রথমার্ধেই দুই-দুইবার গোলবঞ্চিত হওয়ার পর ইকুয়েডরের হতাশা তখন ছিল চোখে পড়ার মতো।
দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলে গোল পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই দলই। ফলে খেলা আরও খোলামেলা ও উপভোগ্য হয়ে ওঠে। আইভরি কোস্টের হয়ে ইয়ান ডিওমান্ডে এবং সেকো ফোফানা দারুণ সুযোগ পেয়েও শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক হার্নান গালিনদেসকে পরাস্ত করতে পারেননি। পাল্টা আক্রমণে ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতে এবং গঞ্জালো প্লাতার জোরালো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় অথবা সহজেই রুখে দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।
ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছিল, ম্যাচটি তত ড্রয়ের দিকেই ধাবিত হচ্ছিল। দুই দলের কোচই মাঠের কৌশল বদলে বেশ কয়েকজন বদলি খেলোয়াড় নামান। তবুও ডেডলক ভাঙছিল না। মাঠে যখন মনস্তাত্ত্বিক চাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের বয়স তখন ৯০ মিনিট। সতীর্থের এক দুর্দান্ত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, বক্সের ভেতর থেকে ঠান্ডা মাথায় কোণাকুণি শটে বল জালে পাঠান আমাদ দিয়ালো। মুহূর্তেই বুনো উল্লাসে ফেটে পড়ে আইভরি কোস্টের পুরো ডাগআউট।
গোল খেয়ে অতিরিক্ত সময়ে সমতায় ফেরার জন্য অলআউট আক্রমণে যায় ইকুয়েডর। তারা লম্বা পাসে আইভরি কোস্টের বক্সে বল পাঠাতে থাকে। কিন্তু আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগ ছিল দারুণ সংগঠিত ও দৃঢ়। শেষ পর্যন্ত গোললাইন অক্ষত রেখে ১-০ ব্যবধানের কঠিন কিন্তু অত্যন্ত মূল্যবান জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফ্রিকান পরাশক্তিরা। এই জয়ের ফলে শক্তিশালী জার্মানির পাশাপাশি ‘ই’ গ্রুপে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিল আইভরি কোস্ট।

