নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও অচেতন অবস্থায় নদীতে চুবিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার তরুণই আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ও বুধবার (১৭ জুন) দুই দফায় ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার খাস কামরায় হাজির করা হলে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁরা এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি দেওয়া তরুণেরা হলেন আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১), মারুফ মিয়া (১৯) ও মো. সাঈম মিয়া (১৯)। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় ওই শিশু। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে ৫০০ গজ দূরে কংস নদের এক বাঁকে তল্লাশি চালান। সেখানে নদীর তলদেশে কাদার ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। রাতেই দাফনের উদ্দেশ্যে গোসল করানোর সময় স্পর্শকাতর স্থানে গভীর ক্ষত দৃশ্যমান হলে স্বজনেরা দাফন স্থগিত রেখে পুলিশে খবর দেন। পরে সোমবার রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর এলাকার চার তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও জবানবন্দিতে তাঁরা স্বীকার করেছেন, কদম ফুল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে কংস নদের পাড়ে জঙ্গলঘেরা স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে অপরাধ জানাজানি হওয়ার ভয়ে তাকে জীবিতাবস্থায় নদীতে চুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তাঁরা এবং লাশ কাদার মধ্যে পুঁতে রাখেন।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিখুঁত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নূরুল হক ঘোষণা দিয়েছেন, এমন নৃশংসতম ও পাশবিক ঘটনায় জড়িত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবেন না।
এদিকে, বুধবার বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে যান বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ। এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যেই আইনমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ঢাকার পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলার মতো এই মামলাটিরও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার বিষয়ে আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

