অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেল স্পেন। পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য দেখানোর পর অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে লা রোহা।
সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। পরে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। ২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে স্প্যানিশরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় স্পেন। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বয়ে প্রথম বড় সুযোগ তৈরি হলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা।
প্রথমার্ধজুড়েই স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তারা তিনটি শটের দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হলেও আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি। বল দখলেও স্পেন ছিল এগিয়ে। প্রথমার্ধে তাদের দখলে ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ বল, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল ৩৫ শতাংশ। নিখুঁত পাসেও স্প্যানিশরা ছিল দ্বিগুণের বেশি এগিয়ে।
৪১তম মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর চোটের কারণে তাকে বদলি করে নামানো হয় নিকোলাস ওতামেন্দিকে।
বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্পেন। একের পর এক সুযোগ তৈরি হলেও দুর্দান্ত গোলরক্ষণের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে আরও চাপে পড়ে আলবিসেলেস্তেরা।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়ালেও ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ১০৬তম মিনিটে আর ভুল করেনি স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে ফেরান তোরেস জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। তবে ১০ জনের দল নিয়ে শেষ পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যোগ করে লা রোহা।

