আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাউ (MS NOW) ও পলিটিকোকে নিষিদ্ধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ ও মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তুলে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন তিনি। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদন বা ঘটনার উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে এসব সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে লাগাতার ‘মিথ্যা সংবাদ’ প্রকাশের কারণে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করতে পেরে তিনি গর্বিত। তিনি অভিযোগ করেন, এসব সংবাদমাধ্যম প্রেসিডেন্ট, তাঁর প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে মিথ্যা ও কাল্পনিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেও ট্রাম্প বলেন, নিষেধাজ্ঞার পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিবেদন দায়ী নয়। বরং কয়েক বছর ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের সম্মিলিত প্রভাব থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
পলিটিকোর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে অভিযোগ তুলে ট্রাম্প বলেন, জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়ে মার্কিন সরকার সংবাদমাধ্যমটির সাবস্ক্রিপশনে প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। তিনি এ অর্থ ব্যয়কে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে তুলনা করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা নথি ট্রাম্পের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন জানায়, হোয়াইট হাউসে তাদের সাংবাদিকেরা ন্যায্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশনের কাজ অব্যাহত রাখবেন। নেটওয়ার্কটি বলেছে, মার্কিন সংবিধানের অধীনে সরকারের বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের অধিকার তাদের রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেটিকে সাংবিধানিক অধিকারের ওপর অবৈধ আঘাত হিসেবে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে সিএনএন।
পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হোয়াইট হাউসের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখবে। সংবাদমাধ্যমটি তাদের সাংবিধানিক অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এমএস নাউও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এদিকে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম অধিকার সংগঠন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ধরন বা মতাদর্শের কারণে হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলে তা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মত দিয়েছেন আইন ও সংবাদমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘গালফ অব মেক্সিকো’র পরিবর্তে ‘গালফ অব আমেরিকা’ ব্যবহারের নির্দেশনা অনুসরণ না করায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদের ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো সীমিত প্রবেশাধিকার থাকা জায়গায় প্রবেশ বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এ নিয়ে এপি আদালতের দ্বারস্থ হয়।
ট্রাম্পের সঙ্গে সিএনএনের বিরোধও নতুন নয়। তাঁর প্রথম মেয়াদে সিএনএনের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জিম অ্যাকোস্টার প্রবেশাধিকার বাতিল করা হয়েছিল। পরে সিএনএনের করা মামলার পর তার পরিচয়পত্র পুনর্বহাল করা হয়।
সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্য রূপ পেল। ট্রাম্প ভবিষ্যতে আরও সংবাদমাধ্যমকে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

