আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে ‘মাছি জনতা পার্টি’ (এমজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন সংগঠন। ‘মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহার করা যায় না’—আদালতের এই উপমা থেকেই সংগঠনটির নামকরণের ধারণা এসেছে। এর আগে প্রধান বিচারপতির আরেকটি মন্তব্যকে ঘিরে পরিচিতি পেয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
সংগঠনটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আরিয়ান নামের এক শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। নিজেদের তরুণদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরে এমজেপি নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এবং কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার অধিকারের কথা বলছে। তাদের দাবি, মূলধারার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক নেই।
এমজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল ২০২১ সালের জুনে। তবে বর্তমান নাম গ্রহণের আগে আটবার অ্যাকাউন্টটির নাম বা ইউজারনেম পরিবর্তন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনটি মুখপাত্র খুঁজছে বলেও জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পোস্ট ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মাত্র ৭২ ঘণ্টায় তাদের অ্যাকাউন্টে ৩৩ লাখের বেশি অনুসারী এবং ৪০ লাখের বেশি ভিউ হয়েছে।
গত ৯ অক্টোবর দিল্লিতে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে গণপরিবহন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের যৌক্তিকতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নিরাপত্তার কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা আর পুরো ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে। এ সময় ‘মাছি মারতে হাতুড়ি’ ব্যবহারের উপমা দেওয়া হয়। এমজেপি সেই মন্তব্যকে নিজেদের পরিচিতি তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে।
এর আগে আদালতের আরেকটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আলোচনায় এসেছিল। সংগঠনটি প্রতিবাদ ও জবাবদিহির দাবিকে সামনে রেখে অনলাইনে পরিচিতি গড়ে তোলে। এমজেপি সিজেপির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং দুই সংগঠনের সম্মতিতে অভিন্ন অবস্থান বা যৌথ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।
এমজেপি নিখিল ভারত ছাত্র সংঘের (এআইএসএ) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসা নেহা বোরার সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে তারা স্বীকার করেছে, সাম্প্রতিক কিছু বিক্ষোভের জন্য প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না। তাই আইনের সীমার মধ্যে থেকে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবাদের অধিকার চর্চার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
গত ১৩ অক্টোবর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিয়ানের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে যন্তর মন্তরে সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটকের ঘটনার সমালোচনা করা হয়। বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, মানুষ যদি এমন জায়গায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে না পারে, যেখানে তা শোনা প্রয়োজন, তাহলে প্রতিবাদস্থলের অর্থ কী? সেখানে গণতন্ত্রে দূরত্বের পরিবর্তে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
ব্যঙ্গাত্মক পরিচিতির পাশাপাশি এমজেপি অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়েও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে। সংগঠনটির ওয়েবসাইটে উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ব্যবসার প্রসারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, শুধু অভিযোগ তোলার বদলে বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য বাস্তবসম্মত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এমজেপির উত্থান ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ভাষার নতুন একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে অনলাইনে পাওয়া সাড়া কতটা দীর্ঘমেয়াদি সংগঠিত কর্মকাণ্ডে রূপ নেয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

