আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। ট্রাম্প প্রশাসন নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নিবন্ধন চালু হলেও নির্বাচিত আবেদনকারীরা শেষ পর্যন্ত গ্রিন কার্ড পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
ব্লুমবার্গ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জিনসুক ওহটা গত ১৪ অক্টোবর ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়ে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তী সংশোধিত আদেশে নিবন্ধনসংক্রান্ত সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়।
সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা করতে এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন চালু করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত আবেদনকারীদের অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য ৩০ দিনের সময়সীমা রাখার কথাও বলা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা রেড ঈগল ল-এর দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ আসে। মামলায় ২০২৭ অর্থবছরের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু করতে সরকারের ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, সরকার যুক্তি দিয়েছিল, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লটারি আয়োজনের সুযোগ ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে।
নির্বাচিত হলেই কি মিলবে গ্রিন কার্ড?
আদালতের নির্দেশে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া পুনরায় চালুর পথ তৈরি হলেও আবেদনকারীদের হাতে সময় তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। ডিভি-২০২৭ ভিসা বছর ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ফলে নিবন্ধন, নির্বাচনের ফল প্রকাশ, নথিপত্র প্রস্তুত, যোগ্যতা যাচাই, সাক্ষাৎকার ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম সময় পাওয়া যেতে পারে।
তবে লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা, যাচাই-বাছাই এবং ভিসা প্রক্রিয়ার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভিসা ইস্যু না হলে নির্বাচিত হয়েও স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা থাকবে।
এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডাইভার্সিটি ভিসা ইস্যু স্থগিতসংক্রান্ত নির্দেশনা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারলেও স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভিসা ইস্যু করা হবে না।
আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে ডিভি-২০২৭ কর্মসূচি পুনরায় চালু ও আবেদনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ভিসা ইস্যুর বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনার সঙ্গে আদালতের আদেশ কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আবেদনকারীদের এখন কী করা উচিত?
ডিভি-২০২৭ লটারিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের নিবন্ধন শুরুর তারিখ, আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত। নিবন্ধন চালুর নির্দেশকে ভিসা প্রদান পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
সব মিলিয়ে, আদালতের আদেশ ডিভি-২০২৭ লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করেছে। তবে নিবন্ধন, নির্বাচন, আবেদন যাচাই এবং ভিসা ইস্যুর প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করার জন্য হাতে থাকা সীমিত সময়ই শেষ পর্যন্ত আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

