নিজস্ব সংবাদদাতা

বিএনপি নেতা, দৈনিক দেশের আলো’র সম্পাদক ও প্রকাশক আনিসুল ইসলাম সানি ৬৬ বছর পূর্ণ করে ৬৭ বছরে পদার্পণ করেছেন। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর উদ্যোগে তার জন্মদিন উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) শহরের উকিলপাড়াস্থ আনিসুল ইসলাম সানির নিজ বাসভবনে ঘরোয়া পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে জন্মদিন উদযাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আনিসুল ইসলাম সানি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাসাসের নেতাকর্মী, বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বজনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “জীবনের এই বিশেষ দিনে যারা ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও দোয়া নিয়ে পাশে রয়েছেন, তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াই আমার পথচলার সবচেয়ে বড় প্রেরণা।”

জন্মদিন উপলক্ষে সারাদিনই রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং শুভানুধ্যায়ীরা তার কার্যালয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান।

নারায়ণগঞ্জে স্বচ্ছ ও আদর্শবাদী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত আনিসুল ইসলাম সানি ১৯৬০ সালের এই দিনে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১ নম্বর বাবুরাইল এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মো. সামসুল ইসলাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ কো-অপারেটিভ টাউন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। অসহযোগ আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এলাকায় স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তার মা মরহুম জাহানারা ইসলাম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর (বর্তমানে মহানগর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভানেত্রী। রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সড়কস্থ উকিলপাড়া জামে মসজিদের জমি ওয়াক্ফ করে যান তিনি। বর্তমানে ওই মসজিদের পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন আনিসুল ইসলাম সানি।

তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে বর্তমানে জীবিত রয়েছেন আনিসুল ইসলাম সানি এবং তার এক ছোট বোন।

রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন আনিসুল ইসলাম সানি। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি ও জেলা জাগদলের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৮ সাল থেকে কেন্দ্রীয় কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি জাসাস জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে আনিসুল ইসলাম সানি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং বিভিন্ন মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। তার উকিলপাড়াস্থ বাসভবনেই একসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যালয় স্থাপিত ছিল, যা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও পরিচালিত হতো ওই কার্যালয় থেকে।

রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও সুপরিচিত মুখ আনিসুল ইসলাম সানি। তিনি নারায়ণগঞ্জ নাট্য সম্প্রদায়, প্রকাশ ক্লাব, আজকাল নাট্য সংসদ (ঢাকা)সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় নাট্য সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ঐতিহ্যবাহী নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এবং বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গেও তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দীর্ঘদিন জনপ্রিয় দৈনিক দিনকাল পত্রিকার নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও ব্যুরো প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুই দশকের বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘দৈনিক দেশের আলো’ এবং ‘দেশের আলো অনলাইন’-এর সম্পাদক ও প্রকাশকও। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব এবং নিউইয়র্কস্থ আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সম্মানিত সদস্য।

শিক্ষাজীবনে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু শহরের চাষাঢ়াস্থ ‘শহীদ জিয়া হল’ আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি ‘বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’ নামে প্রতিষ্ঠার দাবি ও প্রচেষ্টাও অব্যাহত রেখেছেন।

ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে আনিসুল ইসলাম সানি তাঁর জীবনের সিংহভাগ সময়ই বিলিয়ে দিয়েছেন দল, রাজনীতি আর নারায়ণগঞ্জের মাটি ও মানুষের কল্যাণে। চড়াই-উতরাই আর বন্ধুর রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে আজও তিনি কর্মীদের কাছে এক বিশ্বস্ত অভিভাবক এবং সততার প্রতীক।

জীবনের ৬৬টি বসন্ত পেরিয়ে ৬৭ বছরে পদার্পণের পরেও তিনি জানালেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নারায়ণগঞ্জসহ দেশবাসীর হৃদয়ের গভীর থেকে নিঃস্বার্থ দোয়া ও ভালোবাসা তাঁর পরম পাওয়া। মানুষের এই ভালোবাসা ও আস্থাই তাঁর অতীত থেকে বর্তমান এবং বর্তমান থেকে আগামীর পথচলার অন্তহীন প্রেরণা।

Share.
Exit mobile version