নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া ও চীনে ছয় দিনের এই সফরে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরিকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে সামনে রাখছে সরকার।
রোববার (২১ জুন) বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। সফরসঙ্গী হচ্ছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ ২৭-২৮ সদস্যের একটি তুলনামূলক ছোট প্রতিনিধিদল।
সফরের বিস্তারিত শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্যমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়া পর্বে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে শ্রমবাজারের প্রশ্ন। নতুন খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, পেশাদার জনবল প্রেরণ এবং বিদ্যমান শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা বিস্তারের বিষয়েও আলোচনা হবে।
২২ জুন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একান্ত এবং পরে প্রতিনিধিদল পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই সফরে সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে একটি টার্মস অব রেফারেন্স বিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনও করবেন।
এদিকে, আসিয়ানে ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ মর্যাদা এবং বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে যোগ দেওয়ার বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
মালয়েশিয়া পর্ব শেষে সোমবার বিকেলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে সরাসরি চীনের দালিয়ানে যাবেন তারেক রহমান। সেখানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ১৭তম ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’ বার্ষিক সম্মেলনে, যা ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত, অংশ নেবেন তিনি। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যের এই ফোরামে ৯০টির বেশি দেশের ১ হাজার ৭০০-এর অধিক প্রতিনিধি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনভিত্তিক প্রবৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করবেন।
চীন সফরে ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং ২৬ জুন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারেক রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিয়াম জানান, এই সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও সংযোগ খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে কথা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৬ জুন রাতে ঢাকায় ফিরবেন বলে জানানো হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মধ্যে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ দেশে সফরকে সরকারের প্রাথমিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। সফরের সাফল্য নির্ভর করবে মূলত চুক্তিগুলো কতটা দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয় এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রবেশ আদৌ আরও সহজ হয় কি না, তার ওপর।

