নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজরদারি জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ নির্দেশনার কথা জানান।
আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং এটি একটি ‘মাফিয়া দল’। তাঁর ভাষ্য, আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যাতে কোথাও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার কথাও উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অপরাধীদের সক্রিয় বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ধারাবাহিকভাবে অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ এলাকার পরিস্থিতিতে আরও দৃশ্যমান উন্নতি আসবে। অপরাধী চক্রগুলোকে আইনের আওতায় এনে এলাকাটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সরকার দ্রুতগতিতে কাজ করছে। বিভিন্ন খাতে সরকারের কর্মকাণ্ডের গতি ও সক্রিয়তা সাধারণ মানুষের কাছেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, ইন্টারপোলের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ফলেই দুবাইয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র ইতোমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সকল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা জানান তিনি। তবে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।
পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, একসময় জনমনে পুলিশকে ঘিরে নিষ্ক্রিয়তার ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাহিনীর সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব সদস্য বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতেই এ পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

