স্পোর্টস ডেস্ক

ব্যাটিংয়ে শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং স্বর্ণা আক্তারের ঝড়ো ইনিংসে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগ্রেসরা। এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঐতিহাসিক দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।

শনিবার (২০ জুন) সাউদাম্পটনে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই পাকিস্তানের বোলারদের সামনে বিপর্যয়ে পড়ে টাইগ্রেসরা। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারালে মাত্র ১৩ রানেই তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন তিনি। পাকিস্তানের আঁটসাঁট বোলিংয়ের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে খেলে ৩৮ বলে গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ রান করেন জ্যোতি। তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহের পথ কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের।

তবে শেষ দিকে দলের ইনিংসে প্রাণ ফেরান তরুণ ব্যাটার স্বর্ণা আক্তার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। মাত্র ২২ বলে ৫টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৩৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন স্বর্ণা। তার কার্যকর ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও বাংলাদেশের বোলাররা ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেন মারুফা আক্তার। গতি ও সুইংয়ের দারুণ সমন্বয়ে ইনিংসের প্রথম ওভারেই মেডেন তুলে নিয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে ফেলেন তিনি।

তবে প্রথম উইকেটের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় অষ্টম ওভার পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত নাহিদা আক্তার ভাঙেন পাকিস্তানের ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর স্পিন আক্রমণে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে আটকে দেন বাংলাদেশের বোলাররা।

অধিনায়ক জ্যোতি দুই প্রান্ত থেকে স্পিনারদের ব্যবহার করে পাকিস্তানের রান তোলার গতি কমিয়ে দেন। রাবেয়া খান ও সানজিদা আক্তার মেঘলা ছিলেন অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। তাদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের কারণে প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকে পাকিস্তানের।

শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার চাপে আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বোলাররা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেননি। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান এবং ২৩ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো আসরে একাধিক ম্যাচ জয়ের নজির গড়ল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা থাকলেও জ্যোতি ও স্বর্ণার লড়াকু ব্যাটিং এবং বোলারদের সমন্বিত পারফরম্যান্স টাইগ্রেসদের এনে দিল স্মরণীয় এক জয়।

Share.
Exit mobile version