অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ বিভাগ। পেনশন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রমের সমন্বয়, তদারকি এবং দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে বিভাগে একজন কল্যাণ কর্মকর্তা (ওয়েলফেয়ার অফিসার) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রশাসন ও সমন্বয় অনুবিভাগের প্রশাসন-৩ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। গত ২ জুলাই উপসচিব মো. জহিরুল হক স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীদের পেনশন সহজীকরণ আদেশ, ২০২০’-এর ২.০১ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তরে পেনশন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন কর্মকর্তাকে কল্যাণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই অনুযায়ী অর্থ বিভাগের প্রশাসন-৪ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন দায়িত্ব অনুযায়ী, কল্যাণ কর্মকর্তা পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় করবেন। পাশাপাশি ২০১৬ সালে অর্থ বিভাগের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত দায়িত্বও পালন করবেন।
তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবসরের অন্তত এক বছর আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসকে অবহিত করা, চাকরিসংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র যাচাই এবং অডিট আপত্তি বা বিভাগীয় মামলা থাকলে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ।
এ ছাড়া পেনশন, আনুতোষিক, ছুটি নগদায়ন এবং সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ)-এর চূড়ান্ত অর্থ উত্তোলনের আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মৃত কর্মচারীর পরিবারের পেনশন-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সহায়তা ও পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবেন তিনি।
পেনশন, আনুতোষিক ও ছুটি নগদায়নের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (পিপিও) ইস্যু নিশ্চিত করা এবং প্রাপকদের দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির বিষয়েও নজর রাখবেন এই কর্মকর্তা।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব, অনুবিভাগ প্রধান, যুগ্মসচিব, উপসচিব, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, আইসিটি অধিশাখাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

