সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সুপ্রিম কোর্টের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক মন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সিনিয়র আইনজীবী। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
জমির উদ্দিন সরকারের সহধর্মিণী নূর আখতার ২০২৩ সালে মারা যান। তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্রসন্তান রেখে গেছেন। তার ছেলে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন।
দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। দলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

