যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তির কিছু অংশ এখন আর কার্যকর নেই বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি অভিযোগ করেছেন, মার্কিন হামলা ও নতুন নিষেধাজ্ঞা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত লঙ্ঘন করেছে।
বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইরানের তেল বিক্রির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা চুক্তির বড় ধরনের লঙ্ঘন। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের কারণে চুক্তির কিছু অংশ ‘অকার্যকর’ হয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণেও যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান কোনো ধরনের আপস করবে না। জাতীয় স্বার্থ ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলা হলে হামলার উৎসস্থলেই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। এর জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ৮৫টি ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এদিকে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক বা চুক্তির কার্যকারিতা শেষ হয়ে গেছে। তার এমন বক্তব্যের পর দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

